রসমঞ্জরি, মরিচ ও ভুট্টায় গাইবান্ধা জেলার ঐতিহ্যবাহী তিনটি পণ্য

 গাইবান্ধা জেলাকে পরিচিত করতে তিনটি পণ্যকে দিয়ে ব্র্যান্ডিং করছে জেলা প্রশাসন। লক্ষ্য, এই তিন পণ্যের নাম শুনলে যাতে যে কেউ গাইবান্ধাকে চিনতে পারে, গাইবান্ধা পরিচিতি পায়। পণ্য তিনটি হচ্ছে রসমঞ্জরি, মরিচ ও ভুট্টা। তিনটি পণ্যকে নিয়ে স্লোগান তৈরি করা হয়েছে। তা হচ্ছে স্বাদে ভরা রসমঞ্জরির ঘ্রাণ, চরাঞ্চলের ভুট্টা-মরিচ গাইবান্ধার প্রাণ।



গাইবান্ধার রসমঞ্জরি: গাইবান্ধা জেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু এক মিষ্টির নাম রসমঞ্জরি। ব্যবসায়িকভাবে ১৯৪০ সালে এই মিষ্টির উৎপাদন শুরু হয়। তবে এর সুনাম ও পরিচিতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ১৯৫০ সালের দিকে। রসমঞ্জরির উদ্ভাবন করেছিলেন গাইবান্ধা শহরের মিষ্টি ভান্ডারের মালিক রাম মোহন দে। প্রতি কেজি রসমঞ্জরি তৈরি করতে শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ২৬০ টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি রসমঞ্জরি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দোকানে প্রতি প্লেট ৫০ টাকা।

গাইবান্ধায় তৈরি হলেও এই বিশেষ মিষ্টির সুনাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে আছে। সাংসদ-মন্ত্রীসহ দেশের যেকোনো এলাকা থেকে কেউ গাইবান্ধায় এলেই প্রথমে রসমঞ্জরির স্বাদ নিতে চান। যেকোনো আনন্দ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস-আদালতে ফাইলমুক্তির কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব হয় রসমঞ্জরির বিনিময়ে। গাইবান্ধা যুব নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, একসময় রসমঞ্জরি সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন এটি অর্থনৈতিক পণ্য। এই সুনাম ধরে রাখতে উৎপাদনকারীদের সচেষ্ট থাকতে হবে।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক কেজি রসমঞ্জরি তৈরি করতে আড়াই কেজি দুধ, ১০০ গ্রাম চিনি, ২৫ গ্রাম ময়দা, ২০০ গ্রাম দুধের ছানা, এলাচসহ পাঁচ টাকার মসলার প্রয়োজন। প্রথমে ছানার সঙ্গে ময়দা মিশিয়ে গুটি গুটি রসগোল্লা তৈরি করতে হয়। ছোট ছোট মার্বেল আকৃতির এই মিষ্টি দুধের ক্ষীরের সঙ্গে গরম করে মেশাতে হয়। এরপর দুধ ঘন করে জ্বাল দিয়ে সেই ঘন দুধের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু রসমঞ্জরি। এসব সামগ্রী দিয়ে তিন ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সহজেই এই মিষ্টি তৈরি হয়।


চরাঞ্চলের মরিচ: গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার সাতটি উপজেলায় এ বছর এক হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। মরিচ উৎপাদন হয়েছে দুই হাজার ৮১৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে বেশির ভাগ মরিচ উৎপাদিত হয়।
গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দুরে ফুলছড়ি পুরোনো উপজেলা হেডকোয়ার্টার মাঠে মরিচের হাট বসে। ২০০৪ সাল থেকে প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। কৃষকেরা জানান, দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান প্রাণ, এসিআই কোম্পানির প্রতিনিধি এবং ঢাকা, বগুড়া, সান্তাহারসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারেরা এখান থেকে মরিচ কেনেন। প্রতি হাটে শতাধিক কৃষক ২০০ থেকে ৩০০ মণ মরিচ বিক্রি করে থাকেন। চরাঞ্চলের অনেক কৃষক মরিচ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।


চরের জমিতে ভুট্টা: মরিচের মতো গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে ব্যাপক হারে ভুট্টার চাষ হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার সাতটি উপজেলায় এ বছর ১৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৫ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩২ মেট্রিক টন। https://sohelbd81g.blogspot.com/2023/07/blog-post_29.html


Comments

Popular posts from this blog

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার